저자: CharlieMunger · 외국인
요약 보기
찰리 멍거의 투자 5계명을 소개한다. 1) 역발상 사고: 성공보다 실패 원인을 먼저 찾아 제거. 2) 원금 보전: 수익보다 손실 회피가 중요. 3) 투자자 기질: 감정 통제와 인내(EQ)가 IQ보다 중요, 대부분의 투자자 탈락 원인. 4) 능력범위(Circle of Competence): 이해하는 사업만 투자. 5) 좋은 경영보다 좋은 사업: 강한 해자를 가진 사업이 우선. 구체적 수치 근거는 제시되지 않음.
다듬은 글
Charlie Munger তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে একটি বিমানবন্দরে আবহাওয়া-পূর্বাভাসকের কাজ করতেন। তাঁর কাজ ছিল পাইলটদের জানানো যে ওড়ার জন্য আবহাওয়া নিরাপদ কি না। কিন্তু এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন একটি কথা বলেন যা সবাইকে অবাক করে দেয়। তিনি বলেন, আবহাওয়া-পূর্বাভাসের কাজ করার সময় তিনি ভাবতেন, কীভাবে সবচেয়ে সহজে এই মানুষদের মেরে ফেলা যায় অথবা বিমানটি ভেঙে ফেলা যায়।
শুনতে অদ্ভুত লাগলেও এর পেছনে Charlie-র একটি বিশেষ নিয়ম কাজ করত। এই নিয়মটি অনুসরণ করেই Charlie Munger ও তাঁর সঙ্গী Warren Buffett বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীতে পরিণত হন। Charlie কেন পাইলটদের মারা বা বিমান ভাঙার কথা ভাবতেন, তা জানলে আপনিও অবাক হবেন। প্রথম নিয়মটি হলো বিপরীত চিন্তা বা Inversion Thinking।
Charlie-র এই চিন্তা নেতিবাচক বা অযৌক্তিক ছিল না। এটিই ছিল তাঁর প্রথম নিয়ম, অর্থাৎ বিপরীত চিন্তা। তিনি বলতেন, সাফল্য নিয়ে ভাবার আগে ভাবো ব্যর্থতা কীভাবে আসতে পারে। সহজভাবে বললে, কীভাবে টাকা বানানো যায় তা না ভেবে ভাবো কীভাবে টাকা ডুবতে পারে। শেয়ার বাজারে মানুষ সাধারণত জানতে চায় একটি শেয়ার থেকে কত রিটার্ন পাওয়া যাবে।
কিন্তু সেই শেয়ারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কোথায়, Charlie সেটাই খুঁজতেন। যে কারণগুলো তাঁর বিনিয়োগ বা টাকা ধ্বংস করতে পারে, সেগুলো তিনি একে একে চিহ্নিত করে বাদ দিতেন। যেমন অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস, ভুল মূল্যায়ন বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি। তাঁর মতে, ব্যর্থতা এড়িয়ে চলতে পারলে সাফল্য স্বাভাবিকভাবেই আসবে। তাই জেতার আগে ভাবো কীভাবে হার এড়ানো যায়।
এই নিয়ম বলে, টাকা কখনো হারানো যাবে না। আপাতদৃষ্টিতে এটি খুব সহজ শোনালেও মেনে চলা সবচেয়ে কঠিন। বেশিরভাগ মানুষ শুধু রিটার্নের আশায় বাজারে বিনিয়োগ করে। কিন্তু Charlie-র কাছে রিটার্নের চেয়ে মূলধন সুরক্ষা বা আসল টাকা নিরাপদ রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, মূল টাকাটাই যদি নিরাপদ না থাকে, তবে রিটার্নের কী হবে? বড় ঝুঁকি নেওয়া বুদ্ধিমান বিনিয়োগ নয়, বড় ঝুঁকিগুলো বুঝে সেগুলো এড়িয়ে চলাই আসল বুদ্ধিমত্তা।
Charlie-র তৃতীয় নিয়মটি এমন যা প্রায় ৯০% বিনিয়োগকারীকে বাজার থেকে ছিটকে দেয়। যদি আপনি বাজার পড়লে আপনার পোর্টফোলিও ২০ থেকে ৩০ বা ৫০ শতাংশ কমে গেলে অস্থির হয়ে পড়েন বা রাতে ঘুম না আসে, তবে বুঝতে হবে আপনার মানসিকতায় সমস্যা আছে। বাজারের কাজ হলো ওঠানামা করা, কিন্তু বিনিয়োগকারীর কাজ হলো শান্ত থাকা। বাজার পড়লে যে আতঙ্কিত হয়, সে কখনো দীর্ঘমেয়াদে জয়ী হতে পারে না।
Charles-এর মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে IQ-এর চেয়ে EQ বা আবেগীয় বুদ্ধি (Emotional Quotient) এবং ধৈর্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাজার উত্তাল থাকলে কেবল তারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে যারা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
চতুর্থ নিয়মটি হলো, আমরা সব কিছু জানি না, এটি মেনে নেওয়া। এই সত্যটি স্বীকার করাই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বাজারের আসল সমস্যা এই নয় যে মানুষ অল্প জানে, বরং আসল সমস্যা হলো মানুষ সব কিছু জানার ভান করে। Charlie-র পরামর্শ ছিল, শুধু সেই ব্যবসাতেই বিনিয়োগ করো যা তুমি ভেতর থেকে স্পষ্টভাবে বোঝো। যদি কোনো শেয়ারের দাম ২৫ শতাংশ পড়ে যায় এবং তুমি বুঝতে না পারো খুশি হবে নাকি ভয় পাবে, তবে তুমি তোমার যোগ্যতার বৃত্তের বাইরে আছো।
বাজার থেকে টাকা বানাতে তোমার সব কিছু জানার দরকার নেই। তোমার শুধু নিজের সীমা জানতে হবে।
Charlie-র পঞ্চম নিয়ম বলে, আমাদের এমন ব্যবসা খুঁজতে হবে যা নিজে থেকেই খুব শক্তিশালী। ব্যবসাটি এতটাই মজবুত হওয়া উচিত যে ব্যবস্থাপনা খারাপ হলেও বা ছোটখাটো ভুল হলেও তা টিকে থাকবে। কারণ ব্যবসায় সবসময় ভালো ব্যবস্থাপনা বা ভালো নেতৃত্ব থাকে না। এর মানে এই নয় যে ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু যদি তাঁকে ভালো ব্যবসা ও ভালো ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি বেছে নিতে হতো, তিনি সবসময় ভালো ব্যবসাকেই বেছে নিতেন। কারণ দুর্বল বা ডুবন্ত ব্যবসাকে সেরা ব্যবস্থাপনাও খুব বেশি সাহায্য করতে পারে না।
কিন্তু যদি আপনার শক্তিশালী ব্রান্ড ও অবস্থান থাকে, তবে গড় মানের ব্যবস্থাপনা নিয়েও কাজ চালানো যায়। এটিকে বলা হয় “বিগ মোট” (Big Moat), যা গ্রাহকদের দাম নির্ধারণের ক্ষমতা ও প্রতিযোগিতা থেকে ব্যবসাকে রক্ষা করে। Charlie-র মতে, ব্যবসা যত সরল হবে, তত শক্তিশালী হবে। অন্যদিকে ব্যবসা যত জটিল হবে, তার ঝুঁকিও তত বেশি হবে। তাই তিনি সবসময় সহজে বোঝা যায় এবং মজবুত ভিত্তির ব্যবসাকেই পছন্দ করতেন।
তাঁর নীতি ছিল পরিষ্কার: প্রথমে ব্যবসার মান দেখো, তারপর ব্যবস্থাপনার ব্যক্তিত্ব। কারণ দীর্ঘমেয়াদে লাভ বা টাকা সবসময় একটি শক্তিশালী ব্যবসার সঙ্গেই আসে।
এই পাঁচটি মানি রুল Charlie Munger শিখিয়েছেন। এই নিয়মগুলো অনুসরণ করেই Charlie Munger ও তাঁর সঙ্গী Warren Buffett ইতিহাসের অন্যতম সেরা বিনিয়োগকারী হয়ে ওঠেন।

Comments 0